মানুষ যখন সবচেয়ে অসহায় হয়ে যায়, তখনই তার হৃদয় থেকে একদম খাঁটি দুআগুলো বের হয়ে আসে।
“আমার প্রিয় দুআর ডায়েরি” আপনাকে শেখাবে সেই খাঁটি দুআ করার আনন্দ, কান্নাভেজা ইবাদতের মিষ্টি স্বাদ, আর আল্লাহর নৈকট্যের প্রশান্তি। এই বইটি আর দশটা সাধারণ দুআর বই এর মতন নয়—এটি হবে আপনার রুহানিয়াতের একান্ত সাথী। যখনই মনে হবে আল্লাহর সাথে দূরত্ব অথবা গাফিলতি সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে, হাতে তুলে নিয়ে এই বইটার প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা পড়লেই আবার ইবাদতের জান ফিরে আসবে ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর অনুমতিতে।
এই বইটি পড়লে আপনি শুধু দুআই শিখবেন না, বরং দুআর স্বাদে নতুন এক জীবন খুঁজে পাবেন, ইন শা আল্লাহ।
লেখিকা শারিন সফি অদ্রিতা’র প্রকাশিত সকল বইগুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন










nusratria1 –
চরম অসহায়ত্বের মুহূর্তে আল্লাহর দরবারে কীভাবে হৃদয়ের সবটুকু আকুতি ঢেলে দিতে হয়, এই বইটি যেন সেটাই নতুন করে শেখাল। নিজের রুহানিয়াতকে সতেজ করতে এবং আল্লাহর নৈকট্য পেতে এটি সত্যিই এক অনন্য ও জাদুকরী বই। প্রতিটা মুসলিমের সংগ্রহে রাখার মতো একটি ডায়েরি, আল্লাহ লেখিকাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
Rebeka Zaman Biva –
বই রিভিউ: আমার প্রিয় দু আর ডায়েরি
লেখিকা: শারিন সফি অদ্রিতা
প্রকাশনী: রাইয়ান প্রকাশন
প্রায়ই অনেকের কাছে শুনি—দু’য়ায় আল্লাহর কাছে কি চাইবে, সেটাই তারা মুখ ফুটে বলতে পারেন না। দু’য়াই ইবাদাত৷ তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ দু’য়াই যদি আমরা সঠিকভাবে করতে না জানি, তাহলে আল্লাহ আমাদের দু’য়া কিভাবে কবুল করবেন?
জীবনে চলার পথে আমরা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি, যখন কোনো অস্থিরতা আমাদের চার-পাশ ঘিরে ধরে—তখন আমরা একটু আশ্রয়ের খোঁজ করি যেখানে মন একটু শান্তি পাবে৷ ‘আমার প্রিয় দু আর ডায়েরি’ এমনই এক প্রশান্তির নীড়৷ এটা কেবল একটা বই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মহান রবের সাথে কথোপকথনের এক অপূর্ব মাধ্যম৷
বইয়ের প্রতিটা পাতা যেন এক একটি মলমের মত৷ যারা অন্তরের গভীর ক্ষতগুলো সারিয়ে তুলতে চান, আত্মাকে একটু স্বস্তি দিতে চান, বইটির প্রতিটা শব্দ তাদের জন্য খুব কার্যকরী৷
শারিনের লেখা ‘আমার প্রিয় দু আর ডায়েরি’ তে—পিতা-মাতার জন্য দু’য়া করা থেকে সন্তান, ভাই-বোন, মজলুমদের জন্য দু’য়া করা সহ অনেক অনেক দু’য়া, স্বামীর হিদায়াতের জন্য দু’য়া সব আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দু’য়া আমাদের জন্য একদম রেডি করে দেওয়া আছে৷ যখন যে দু’য়াই আমাদের প্রয়োজন হোক না কেন, বইটা খুলেই আমরা আল্লাহর কাছে মনভরে দু’য়া চেয়ে নিতে পারবো ইনশা আল্লাহ।
বইয়ের শেষের দিকে কুরআনের বিশেষ কিছু মাসনুন দু’য়া আছে, যেগুলো আমাদের ডেইলি আমল হিসেবে খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ৷
প্রতিটি মুসলিম পরিবারে এই মাস্টারপিস বইটি সংগ্রহে থাকা উচিত৷
এই দারুণ বইটি আল্লাহ প্রিয় শারিন ও রাইয়ান প্রকাশন এর উসিলায় আমাদের পড়ার তৌফিক দিয়েছেন৷ এই বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ এই উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন৷ 🤲🤲
রেবেকা জামান বিভা
Maliha Binte Sohel –
কিছু বই শুধু পড়া হয় না, অনুভব করা হয়—‘আমার প্রিয় দুআর ডায়েরি’ ঠিক তেমনই একটি বই। 🤍🌿
বইটির সূচিপত্রে চোখ বুলিয়েই মনে হলো, এটি কেবল কিছু দুআর সংকলন নয়; বরং জীবনের নানা অনুভূতি, না-বলা কষ্ট, একান্ত চাওয়া আর আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতাকে শব্দে সাজিয়ে রাখার এক সুন্দর প্রচেষ্টা।
কখনো আল্লাহর ভালোবাসা চেয়ে, কখনো অন্তরের পরিশুদ্ধির আশায়, কখনো নিজের পরিবার, সন্তান কিংবা প্রিয় মানুষগুলোর জন্য—আবার কখনো দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভাবনা, মানসিক ক্লান্তি আর জীবনের কঠিন সময়গুলোতে একটু প্রশান্তির খোঁজে আমরা কত কিছুই না বলতে চাই আল্লাহকে! অথচ সব সময় মনের কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারি না। এই বইয়ের বিষয়বস্তুগুলো দেখে মনে হলো, আমাদের সেই না-বলা কথাগুলোই যেন এখানে দুআর ভাষা খুঁজে পেয়েছে।
বিশেষ করে একজন মা হিসেবে ‘স্পেশাল বাচ্চার মা-বাবার জন্য’ দুআর বিষয়টি আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা হিসেবে প্রতিদিনের পথচলায় কত অজানা দুশ্চিন্তা, কত নির্ঘুম রাত, কত অসহায় মুহূর্ত আর কত নীরব প্রার্থনা জমে থাকে হৃদয়ের গভীরে—তা হয়তো সবাই বুঝতে পারে না। সন্তানের সুস্থতা, ভবিষ্যৎ আর সুন্দর জীবনের আশায় একজন মা কতবার যে তাঁর রবের কাছে ফিরে যান, তার হিসাবও হয়তো তাঁর নিজের জানা নেই। তাই বইয়ের এই অংশটি আমার কাছে নিছক একটি শিরোনাম নয়; বরং নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে যাওয়া এক আবেগের জায়গা।
এ ছাড়া বাবা-মা, সন্তান, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, হিদায়াত, রিজিকের বরকত, অন্তরের প্রশান্তি, কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এবং উমরাহর কবুলিয়াত—জীবনের কত পরিচিত অথচ গভীর প্রয়োজনকে যে বইটি এক মলাটে একত্র করেছে, তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
আমার কাছে বইটির সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এটি যেন মনে করিয়ে দেয়—দুআ শুধু চাওয়ার নাম নয়; দুআ হলো নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করে রবের কাছে ফিরে যাওয়া, নিজের অন্তরকে তাঁর সামনে মেলে ধরা, আর সমস্ত অস্থিরতার মাঝেও তাঁর কাছে প্রশান্তি খুঁজে নেওয়া।
আমি চাই, বইটি আমার দুআর মুহূর্তগুলোকে আরও অর্থবহ করে তুলুক। প্রতিটি পাতায় যেন নিজের জন্য, আমার সন্তান ফাতিমার জন্য, আমার পরিবার এবং প্রিয় মানুষগুলোর জন্য আরও আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে পারি। এমনকি যেসব অনুভূতি কাউকে বোঝাতে পারি না, সেগুলোও যেন দুআর মাধ্যমে আমার রবের কাছে তুলে ধরতে শিখি।
কিছু বই পড়ে শেষ হয়ে যায়, আর কিছু বই হৃদয়ে থেকে যায়—নীরব রাতে, অশ্রুসিক্ত দুআয়, কিংবা রবের কাছে একান্তে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে। ‘আমার প্রিয় দুআর ডায়েরি’ আমার কাছে তেমনই একটি বই হয়ে উঠুক—যার পাতায় পাতায় খুঁজে পাব নিজের মনের ভাষা, আর প্রতিটি দুআ আমাকে মনে করিয়ে দেবে, আমার রব আমার না-বলা কথাগুলোও জানেন। 🌸
আল্লাহ বইটিকে লেখিকার জন্য কল্যাণের মাধ্যম করুন, পাঠকদের উপকৃত করুন এবং আমাদের প্রত্যেককে আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে চাইতে ও তাঁর ওপর ভরসা করতে শেখান। আমিন।