‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আলাক : ১)
আল্লাহর এই আদেশ মেনে একসময় মুসলিমরা ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। শিক্ষাদীক্ষা আর জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমরা ছিল অদ্বিতীয়। সভ্যতার পরতে পরতে ছিল তাদের অনস্বীকার্য অবদান।
মুসলিম বিজ্ঞানীরা প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বের প্রথম জেনারেল হাসপাতাল। সবার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা-সহ অসংখ্য অবদান বিশ্বসভ্যতায় মুসলিমরা রেখেছেন।
ইবনু সিনা, সার্জারিতে যাহরাভি-সহ অগণিত বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার আজও পৃথিবী জুড়ে ব্যবহৃত হয়।
শুধু চিকিৎসাই নয়, নগর বিজ্ঞানেও মুসলিমরা ছিলেন বিশ্বসেরা। মসজিদ, গম্বুজ, মিনার কিংবা ঘরবাড়ি—মুসলিম বিজ্ঞানীদের নান্দনিক ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে সবখানে।
জ্ঞানের সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে তারা প্রতিষ্ঠা করে বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়। বাইতুল হিকমাহ-তে জড়ো হয় বিশ্বের তাবৎ জ্ঞানীগুণীরা। তৈরি হয় গবেষণাগার, আবিষ্কৃত হয় অ্যাস্ট্রোলেইব।
বিজ্ঞানী আব্বাস ইবনু ফিরনাস ছিলেন পৃথিবীর প্রথম উড়তে সক্ষম ব্যক্তি। আলোকবিজ্ঞানের উন্নতি করেন আল-কিন্দি। আর ইবনু আল-হাইসাম ছিলেন আলোকবিদ্যার জনক।
আল-জাযারির হস্তীঘড়ি, মুসা ভাইদের প্রথম রোবটিক ডিভাইস বা খারেজমির বীজগণিত ছিল যুগান্তকারী আবিষ্কার। রসায়নবিদ্যার জনক ছিলেন জাবির ইবনু হাইয়ান।
কৃষিতেও মুসলিমদের অবদান অসংখ্য। পানি সেচ, অধিক ফসল উৎপাদন পদ্ধতি থেকে শুরু করে বায়ুকল ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।
কিন্তু আজ মুসলিমরা দিশেহারা, বিভ্রান্ত। তারা ভুলে গেছে নিজেদের সোনালি সুদিন, গৌরবময় ইতিহাস। আর তাই নতুন প্রজন্মকে সেই সমৃদ্ধ অতীত চেনাতে ’আতফাল’ – সন্দীপন প্রকাশনের আয়োজন ‘মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান’ সিরিজ।
সিরিজটি অনুপ্রাণিত সেলিম আল-হাসসানির সাড়া জাগানো গ্রন্থ ‘1001 Inventions’ থেকে।
মুসলিম উম্মতের হারানো গৌরবের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই সিরিজটিতে! আশা করা যায়, ভুলে যাওয়া সে গৌরবের গল্প নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বিশ্বজয়ের অভিযানে।









